বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১১

একটু সচেতনতা দিতে পারে নিশ্চয়তা। আসুন না একটু সচেতন হই

পঞ্চগড় জেলায় রাজনগর একটি ছোট এলাকা। এ এলাকা পৌরসভার অভ্যন্তরে অবস্থিত। পৌরসভার সকল সুবিধা ভোগ করা সত্ত্বেও এখানকার মানুষ একটু কম সচেতন। এই এলাকায় কিছু কিছু বাড়ির সামনে অনেক ময়লা আর্বজনা পড়ে থাকে। ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও এলাকার মানুষ দূরে ডাস্টবিনে না গিয়ে বাড়ির বাহিরে ময়লা আবর্জনা ফেলে। রাস্তায় এসব ময়লা আর্বজনা পশু পাখি দ্বারা সমস্ত রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে রাস্তা নোংরা হয় এবং জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধা হয়। এসব বর্জ্য পদার্থ হতে দুগর্ন্ধ ছড়ায় যা পরিবেশ ও বায়ু দূষণ করে ।

অপরদিকে এলাকার ভিতরে হোটেলের রান্নার জন্য একটি খোলা মাঠের পাশে কয়েকটি কাঁচা ঘর দেয়া হয়েছে, যেখানে রান্নার কাজ করা হয় এবং মাঠের মধ্যে একটি গর্ত করে তাতে সকল প্রকার রান্নার পরিত্যাক্ত জিনিস ও ময়লাযুক্ত পানি ফেলা হয়। এছাড়াও আশেপাশে সব বাড়ির ময়লা আর্বজনা সেখানে জমা করা হয়। এ কারনে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে পাশাপাশি মাঠের মধ্যে যেসব ছেলেরা খেলা করে তাদের জন্য এসব বেশ অসুবিধাজনক ও ক্ষতিকর। কিন্তু তাদের এই দূষণযুক্ত পরিবেশই খেলতে হয়। এটি সমাজের একটি বিশাল সমস্যা, অথচ আমরা যদি একটু সচেতন হই তবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আসুন আমরা নিজেরা একটু সচেতন হই এবং অপরকে সচেতন করি । তবেই আমরা সুস্থ সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারবো ।
তুম্পা (স্বেচ্ছাসেবক)পঞ্চগড় থেকে।

আর কতদিন চলবে এ দূরাবস্থা

পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে ১১কি.মি. দূরে অবস্থিত ৭৬ নং গলেহা কান্তমনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এ স্কুলে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক অগ্রসর ছিলো এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণও ছিল বেশ স্বতঃস্ফূত। এ স্কুলে বৃত্তি ও পেত অনেক ছাত্রছাত্রী। কিন্তু বতর্মান পরিস্থিতিতে এ স্কুলে শিক্ষার হার অনেক কম। সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় এই যে,৫ম শ্রেণীতে পড়া এমন কতগুলো ছাত্রছাত্রী নিজের নামটাও ঠিকমত লিখতে পারে না ।

অপরদিকে যে মাঠ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ভরে থাকার কথা সে মাঠে এখন স্থানীয় এলাকাবাসীরা অবলীলায় গরু বাধে, কেউবা মাঠের সবুজ ঘাসে নিড়ানি দিয়ে ধান শুকায়, নেই কোন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ।বিনোদনের সঠিক চর্চা না থাকার এবং দক্ষ শিক্ষকদের অভাবে দিন দিন কমে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার আগ্রহ। এভাবে এ স্কুল চলতে থাকলে এ স্কুলের শিক্ষার হার ক্রমশই কমে যাবে শূন্যের কোটায়, সে দিন আর দূরে নয় যদি এখনই হাল না ধরা হয়। তাই আর বসে থাকা নয় স্কুল কমিটির এ ব্যপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ।

যৌতুক প্রথা ও নারী নির্যাতন

যৌতুক প্রথা একটি ভয়াবহ সামাজিক অভিশাপ। সুদূর প্রাচীন কাল থেকেই কন্যার পিতারা এ যৌতুক প্রথার কবলে পতিত হয়েছে। মেয়েরা শ্বশুরবাড়ীতে এর জন্য বহু নীপিড়ন সহ্য করছে। যতই দিন যাচ্ছে সভ্যতা বিকশিত হচ্ছে ততই যেন যৌতুক প্রথার প্রকোপ ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যৌতুক প্রথার নিষ্ঠুর অত্যাচার, নারী নির্যাতন নিত্য খবর। 'পণ' হিসাবে মোটা অংকের নগদ টাকাতো আছে তার সাথে আরও মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী, টিভি,ফ্রিজ, ইত্যাদি। এমনকি ফ্লাটবাড়ী, কিংবা উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাবার খরচের কথাও কোথাও কোথাও এসে পড়ে । কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা হয়ত কন্যার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা করে তার যথাসর্বস্বকরে থাকে। কিন্তু কোন কারণে যদি পিতারা প্রতিশ্রুতি ঠিকমত পন্যসামগ্রী পাত্র পক্ষকে না দিতে পারে তাহলে মেয়ের উপর চলে নিষ্ঠুর অত্যাচার নির্যাতন এমনকি হত্যা করার চক্রান্ত। পণ প্রথার পরিনাম হচ্ছে মারাত্বক। বর্তমান যৌতুক এক জায়গায় স্থির নয়। এক শ্রেণীর মানুষের সহজ অর্থ লোভ এ যৌতুক ও পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ নিষ্ঠূর যৌতুক প্রথা বিলোপ করতে হবে এটা যেমন সমাজের দাবী তেমনি সরকারের দাবী।সরকার যৌতুক প্রথা বিলোপ করতে বহুদিন থেকেই উদ্যোগী হয়েছেন। এর জন্য আইন ও প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু তার কতটুকুই বা কার্যকরী হয়ছে? এ ব্যাপারে সরকার এবং দেশের জনসাধারণ উভয় পক্ষই সমভাব দায়ী।

যে দেশের নারী সমাজ এখনো তাদের স্বামীর নাম মুখে আনতো না, সেই সমাজ থেকেই যৌতুক প্রথা ও নারী নির্যাতন তুলে দেয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। কিন্তু নারীর মুক্তির জন্য চাই নারী আন্দোলন, নইলে এ প্রথার বিষময় থেকে রেহাই নেই। আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজের প্রতিটি নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তবে একটি আশার কথা, আমাদের নারী সমাজ একেবারে নীরব হয়ে নেই। তারাও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে এখন এর সাথে সরকারী আইন যুক্ত হলেই যৌতুক প্রথা এদেশ থেকে অতিদ্রুত উঠে যাবে। আমাদের সকলের কামনা, দেশ থেকে এ অভিশাপ প্রথা উঠে যাক, বাঁচুক নারী সমাজ, বাঁচুক কন্যাদায়গ্রসত্ম পিতা-মাতা।


রাজশাহী থেকে
নিলুফার ইয়াসমনি

বুধবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১১

পঞ্চগড়ে বোরো ধানের চারা উৎপাদনে কৃষকের নতুন প্রযুক্তি, কৃষিবিদরা অবাক ।


পঞ্চগড় জেলায় তুলনামূলক শীত ও কুয়াশার তীব্রতা বেশী থাকায় বোরো মৌসুমে ধানের চারা উৎপাদনে কৃষকদের নানা ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। সে কারণে পঞ্চগড়ের কৃষকেরা বোরো চাষে লাভের মুখ সহসায় দেখতে পায় না । বোরো চাষের ক্ষেত্রে চারা উৎপাদনই মূল প্রতিবন্ধকতা ।

তবে পঞ্চগড়ের কৃষকেরা কৃষিবিজ্ঞানকে হার মানিয়ে বোরো বীজ তোলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারা গজানোর নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছে । কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় জমি চাষ করে বেড তৈরি করা হয় প্রথমে ।পরে ধানের বীজ ছিটিয়ে দিয়ে পুরো বেডটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়, বেডের ধার গুলো কাঁদা দিয়ে পলিথিনটি চেপে দেওয়া হয় । ৩০/৩৫ দিন পর পলিথিন তুলে ফেলা হয় ।২/৪ দিন ফাঁকা থাকার পর কৃষকেরা বোরো বীজ তুলে জমিতে চারা রোপন করে ।

পঞ্চগড় পৌরএলাকার উত্তর জালাশীপাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানায় এই পদ্ধতিতে আমরা বোরো ধানের বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করে আসছি। ফলনের ব্যাপারে কৃষক আশরাফুল বলেন আমরা আশানুরুপ ফলন পাচ্ছি। তবে চারাগুলো জন্ম থেকেই পলিথিনের ভিতরে বড় হওয়ার কারণে জমিতে রোপনের পর প্রায় ১০ ভাগ চারা মারা যায়। তিনি আরো বলেন এ পদ্ধতি আবিষ্কারের আগে বোরো চাষ আমাদের এ এলাকার জন্য ছিল কঠিন ব্যাপার। তারা নিজেরা এপদ্ধতি আবিষ্কার করে বোরো ধান চাষ শুরু করলেও দীর্ঘদিনেও তাদের কাছে কোন কৃষিবিদ জাননি কিংবা কোন বছরেও তারা কৃষি ভূর্তকি পাননি । পঞ্চগড় জেলায় বোরো চারা উৎপাদনের এপদ্ধতি এখন ব্যাপক জনপ্রিয় ।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা বিজয় কুমার চ্যাটার্জী জানান চলতি বোরো মৌসুমে ৪৩,৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হবে।
বিশ্ব বাজারে খাদ্যশস্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশের খাদ্যশস্য গবেষণা কর্মকর্তারা তাদের গবেষণা কর্ম দায় সারা গোছেরভাবে চালিয়ে যাচ্ছে । বাংলাদেশের সম্ভবনাময় জেলা পঞ্চগড়। কখনো খরা, অতি বৃষ্টি, বন্যা সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে এ জেলার কৃষি ব্যাপকভাবে এগিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর কাড়তে পারে নি এখনো। কি অদ্ভুত কৃষি বিজ্ঞানকে হার মানিয়ে পঞ্চগড়ের কৃষককূল বোরো চাষে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে র্দীঘদিন ধরে বোরো ধান চাষ করে দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখেই যাচ্ছে ।

ধান গবেষণা কর্মকর্তারা তাদের গোছানো পদ্ধতি ছাড়া নতুন কিছু আবিষ্কারের চিন্তা ভাবনা করছে না ।প্রজাতন্ত্রের এ সকল কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সম্মানজনক বেতন ভাতা দামী গাড়ি আলিশান বাড়ি অফিস পিয়ন কেরানি সবই পেয়েছে ।

যাদের টাকায় এত সব কিছু তাদের জন্য সরকারী এ কৃষিবিজ্ঞানীরা কতটুকুই অবদান রাখছে। সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা তারা যেন আজো চাষা, সফল কৃষক হতে পারলো না । সফলতা বিজ্ঞানীদের, ব্যর্থতা কৃষকদের। বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানীদের করপোরেট চিন্তা চেতনার পরিবতর্ন না হলে এ দেশের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব না। প্রতি বছর মোট জনসংখ্যার সাথে ২০ লাখের বেশী মানুষ যোগ হচ্ছে, সাথে শতকরা ৪ ভাগ কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এখনই সময় দ্রুত আমরা সকলে মিলে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুপ্ত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্মকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।

কমল কুমার সরকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা কমলা প্রকল্প পঞ্চগড় অফিসে কর্মরত আছে। একদিন কমলা প্রকল্প অফিসে কৃষি বিজ্ঞানও বর্তমান কৃষির অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। কৃষিবিজ্ঞানের উদাহরন দিয়ে শুরু করেন,শীতের কারণে সবজি বীজতলা রাতে প্লাস্টিক চালা দিয়ে ঢেকে দেয় এবং দিনের বেলায় খুলে দিতে হয়। এতে সূর্যের আলো ভালোভাবে পায় আর রাতে কুয়াশা এবং ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পায় । কৃষি বিজ্ঞান মতে ধানের বোরো চারা ‌উৎপাদনে যে প্রযুক্তি এ অঞ্চলে ব্যবহৃত হচ্ছে যা কোন বইতে বা গবেষণা থেকে তথ্য পাওয়া যায় নি । এখানে কৃষকরা বীজতলা তৈরী করার পরে অঙ্কুরিত ধানের বীজ ফেলে সম্পূর্ণ বীজের উপর রঙ্গিন এবং সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে ফেলে আইলের চারপাশে কাঁদা দিয়ে আটকিয়ে দেয় যাতে পলিথিন সরে না যায়। ৩৫/৪০ দিন পর কৃষকরা সরাসরি পলিথিন সরিয়ে চারা উৎপাদন করে মাঠে রোপন করে সম্পূর্ণ চারা উৎপাদনের সময়টি পলিথিনে ঢেকে রাখে যা সূর্যের আলো বা বাতাস পায় না।
চারা উৎপাদনের জন্য যা দরকার -১.মাটি ২.আলো ৩.বাতাস ৪.এবংপানি এ কয়েকটি অবশ্যই প্রয়োজন। পঞ্চগড়ে বোরো চারা উৎপাদনে বর্তমান প্রযুক্তি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিস্তর গবেষণা করে গবেষণার ফলাফলটি কৃষকের মাঝে তুলে ধরা দরকার। কৃষিবিদ কমল কুমার কৃষি বিজ্ঞানের কথাগুলো এভাবেই তুলে ধরলেন। তার মতে, ধান চাষে ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য উপাথ্য সংগ্রহ করে গবেষণা করা হলে কৃষকদের কোন হয়রানীর মুখোমুখী হতে হবে না।

শাহ্জালাল
পঞ্চগড়

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১১

পঞ্চগড়ে বহুমূখী পাট শিল্প উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ উদ্ধোধন

বহুমূখী পাট শিল্প উদ্যোক্তাদের ১০ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ গতকাল সোমবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) এর সহযোগিতায় দারিদ্র কল্যাণ সংস্থা প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।


পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। পঞ্চগড় শহরের ইসলামবাগে সংস্থার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী পরিচালক মো.শাহজালাল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের রংপুর কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. মাজিদুর রহমান ভুইঁয়া ও সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম (শহীদ) বক্তব্য দেন।

প্রশিক্ষণে ২০ জন নারী উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছে। এতে পাট থেকে রকমারী পণ্য সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) প্রশিক্ষক মো. শামীম আহমেদ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন। দৈনন্দিন ব্যবহারোপযোগী সামগ্রী, হোম টেক্সটাইলস,ফার্নিশিং দ্রব্যাদি তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জানা যায় প্রশিক্ষণ শেষে দারিদ্র কল্যাণ সংস্থার নিজস্ব ক্ষুদ্র পাটকলে পাট জাত পন্য উৎপাদন কাজ করবে এসকল প্রশিক্ষনার্থী। স্থানীয় বাজারে উৎপাদিত পাট পন্য সামগ্রী বাজার জাত করা হবে।

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১০

বর্জ্য অপসারণে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ইতিবাচক উদ্যোগ



রাজশাহী মহানগরীর আয়তন খুব ছোট। এখানে অন্যান্য সমস্যার মধ্যে ময়লা আবর্জনা একটি প্রধান সমস্যা। মহানগীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ময়লা আর্বজনা ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাসা-বাড়ির ময়লা রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়। অনেক সময় ময়লা আবর্জনা ড্রেনে ফেলা হয়। এর ফলে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ময়লা আবর্জনা অপসরণ না করার ফলে ময়লা আর্বজনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হয়।

পূর্বে দেখা যেত, পিএন স্কুলের সামনে এবং সাগর পাড়াস্থ বড় বস্তায় দিনের পর দিন ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকত। এর ফলে স্কুলের ছাত্রীদের এবং পথচারীর চলাচলে অনেক সমস্যা হত। কিন্তু বর্তমানে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ১লা আগষ্ট ২০০৯ থেকে রাত্রীকালীন ময়লা আবর্জনা অপসারণ শুরু করে। এর আওতায় সিটি করপোরেশনের ছোট ছোট ভ্যান বাসা-বাড়ির ময়লা সংগ্রহ করে প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। এবং রাত ১০টার পর সিটি কর্পোরেশনের ট্রাকে করে ময়লা আবর্জনা ভাগাড়ে ফেলা হয়। এছাড়াও ময়লা ফেলার জন্য শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ বাজারে ছোট ছোট ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে শহরের রাস্তাঘাট পূর্বের তুলনায় অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেখা যায়।

প্রতিবেদক: রাফি

(ছবি ফ্লিকার থেকে ভিপেজ এর সৌজন্যে ক্রিইটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত)

ড্রেনের জন্য চরম দুর্ভোগে জনগণ


রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডে তেরখাদিয়ায় (মধ্যপাড়া) পর্যাপ্ত ড্রেইন ব্যবস্থা নেই। ড্রেইন ব্যবস্থা থাকলেও তা ভাল নয়। ভাল না হওয়ার কারণে জনসাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষার সময় ড্রেনের পানি ভরাট হয়ে উপরে উঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। জনগণ চরম দূর্ভোগে পড়ে। আবার এক পাশের জনগণের ড্রেইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে আর অন্য পাশের জনগণের ড্রেইন ব্যবস্থার আওতয় আনা হয়নি – এমন এলাকাও রয়েছে।

এই এলাকায় প্রায় ১৫০০ জন লোকের বসবাস থাকা সত্ত্বেও ড্রেন ব্যবস্থা নাই। বর্তমান কমিশনারের নির্বাচনী ইস্তেহারে থাকা সত্ত্বেও ড্রেন ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। এতে করে মহল্লার জনগণের অসুবিধা হচ্ছে। এলাকার লোকজন ময়লা পানি রাখার জন্য হাউজ তৈরি করা সত্ত্বেও মাঝে মাঝেই হাউজের দুর্গন্ধ পানি উপচে রাস্তায় চলে আসে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এই জন্য রাস্তায় চলাফেরার অসুবিধা সৃষ্টি হয়।
মহল্লার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দাবি তারা কমিশনারের কাছে পেশ করা সত্ত্বেও সমস্যাটির সমাধান হয়নি।

প্রতিবেদক: নয়ন

(ছবি ফ্লিকার থেকে সাসটেইনেবল সেনিটেসন এর সৌজন্যে ক্রিইটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত)